এন্ড্রু কিশোরের ফেলে যাওয়া স্মৃতি পোড়াচ্ছে দুই বন্ধুকে – newsline71bd
শিরোনাম
রামগঞ্জে নিজস্ব অর্থায়নে এমপি আনোয়ার খানের কম্বল ও খাদ্যসামগ্রী বিতরণ… রামগঞ্জে নৌকার বিজয়ে আওয়ামীলীগ ঐব্যবদ্ধ!! ড. আনোয়ার হোসেন খান এমপি… প্রতারকের খপ্পরে পড়ে রিক্সা খোঁয়ানো দুলাল মিয়াকে নতুন অটোরিক্সা প্রদান।। নাটোরের সিংড়ায় চৌগ্রাম ইউনিয়নে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান,ঐক্য পরিষদ গঠন। নাটোরে বড়হরিশপুর ইউনিয়নে ছাত্রলীগ নেতার উদ্যোগে শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতারণ… রামগঞ্জে নবাগত শিক্ষকদের বরন করে নিলেন সহকারী প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি।। রামগঞ্জে গৃহবধু নির্যাতনের বিচার চাইতে এসে হামলার শিকার ৩মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান।। ওসির সাথে রামগঞ্জ প্রেসক্লাবের সদস্যদের মতবিনিময়!! অসম্ভবকে সম্ভব করে বাংলাদেশ আজ বিশ্বকে দেখিয়ে দিয়েছে আমরাও পারিঃ সেতুমন্ত্রী!! পদ্মার বুকে স্বপ্নের পুরো সেতু দৃশ্যমান!!
বুধবার, ২০ জানুয়ারী ২০২১, ০১:১৭ অপরাহ্ন

এন্ড্রু কিশোরের ফেলে যাওয়া স্মৃতি পোড়াচ্ছে দুই বন্ধুকে

রিপোটারের নাম / ৫৯ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : বুধবার, ৮ জুলাই, ২০২০

পৃথিবীকে চিরবিদায় দিয়েছেন এন্ড্রু কিশোর; কিন্তু রেখে গেছেন অসংখ্য স্মৃতি। সেই স্মৃতিই এখন পোড়াচ্ছে প্রিয়জনদের। সেই প্রিয়জনদের মধ্যে বিশিষ্ট নাট্যকার ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের প্রফেসর মলয় ভৌমিক এবং রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড ও রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান ড. দ্বীপকেন্দ্র নাথ দাস অন্যতম। প্রিয় বন্ধু এন্ড্রু কিশোরের এভাবে চলে যাওয়া কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না তারা।

বাংলা সংগীতাঙ্গনে অসামান্য প্রতিভা, অসম্ভব শ্রোতাপ্রিয় শিল্পী অসংখ্য কালজয়ী গানের কণ্ঠসৈনিক এন্ড্রু কিশোরকে স্মরণ করে বন্ধু প্রফেসর মলয় ভৌমিক বলেন, ‘এন্ড্রু কিশোর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রাবস্থায় থেকেই ভীষণ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিলেন। তখন এতো বিশ্ববিদ্যালয় ছিল না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় দেশের বড় বিশ্ববিদ্যালয় ছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ে তো বিভিন্ন জায়গা থেকে ছেলে-মেয়েরা পড়তে আসে। ঢাকা, চট্রগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলার ছাত্ররা তাকে নিজ নিজ এলাকায় নিয়ে যেতো। তখন থেকেই তার জনপ্রিয়তা ছিল তুঙ্গে। পরে সে সিনেমায় গান গাওয়া শুরু করে।’

বন্ধু এন্ড্রু কিশোরকে স্মরণ করে নাট্যকার মলয় ভৌমিক আরও বলেন, ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগ থেকে আমরা একসঙ্গে ১৯৭৮ সালে মাস্টার্স পাস করেছি। যদিও সে আমার দুই ব্যাচ সিনিয়র ছিল। ১৯৭৫ সালে সে স্নাতক পাস করে। ছাত্রাবস্থায় গান গাইতে দেশের বিভিন্ন জায়গায় যেতো। তাই স্নাতক পাসের পর দুই বছর ড্রপ হয়ে যায়। পরে আমাদের সঙ্গে মাস্টার্স পাস করে। তাই বলতে গেলে সে আসলে আমাদের সামনেই এন্ড্রু কিশোর হয়ে উঠে। একজন নিপাট সাদাসিধে মানুষ শেষ দিনটি পর্যন্ত কারও প্রতি কোনো অভাব-অভিযোগ করেনি। বলা যায়, নিজেকে অনেকটা আড়াল করেই অজানা অভিমানে নিভৃত জীবন বেছে নিয়েছিল এন্ড্রু।

তিনি বলেন, এন্ড্রু কিশোর রাজশাহীর সন্তান ছিলেণ। তার মা রাজশাহীর খ্রিস্টান মেমোরিয়াল হাসপাতালের সিনিয়র নার্স ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে আসার পর থেকে আমরা একইসঙ্গে অনুষ্ঠান করতে যেতাম। সে কোনো অনুষ্টানে গান গাইতে গেলে আমি সেখানে উপস্থাপনা করতাম। আমাদের মধ্যে খুবই ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। অনেক সময় কোনো অনুষ্ঠানে গেলে উপস্থাপনা কে করছে সে জানতে চাইতেন। তখন উপস্থাপনার জন্য তিনি আমার নাম বলতেন।

নাটকে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরষ্কারপ্রাপ্ত এ অধ্যাপক আরও বলেন, তিনি কখনো নিজের অতীত ভুলেননি। ম্যানেজমেন্ট বিভাগের দু’বার অ্যালামনাই অনুষ্ঠানে তিনি এসেছিলেন এবং গানও শুনেছিলেন। তিনি যখন আসতো আমরা ঠিক আগের মতোই আড্ডা দিতাম। একসঙ্গে থাকা, ঘুরাঘুরি আরও কত কি…! তার মধ্যে ছেলেমানুষি স্বভাব ছিল। তার গানের ঐশ্বর্যে অন্তত তিন প্রজন্মের মানুষ বিমোহিত হয়ে আছে। এটা তার অবিস্মরণীয় সাফল্য। এন্ড্রু কিশোরের মত একজন গুণী শিল্পীর প্রয়াণে সঙ্গীত জগতের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি হলো।

এন্ড্রু কিশোরের আরেক বাল্যকালের বন্ধু রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান ড. দ্বীপকেন্দ্র নাথ দাস। রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান তিনি। তিনি বলেন, আমার সঙ্গে তার সম্পর্কটা ‘তুই-তুই’। যারা জ্ঞানী-গুণী মানুষ অথবা একটা ভালো পজিশনে আছে তাদের সঙ্গে তার সম্পর্কটা শ্রদ্ধার। কিন্তু আমার সঙ্গে সেরকমটা ছিল না, থাকা উচিতও নয়৷ তার সঙ্গে সম্পর্কটা হয়েছে সংগীত বিদ্যালয়ে।

সুর বাণী সংগীত বিদ্যালয়ের ছাত্র ছিল সে৷ সেখানে আমি হাওয়াইন গিটারের ছাত্র ছিলাম৷ যেহেতু বয়স কাছাকাছি ছিল, সেহেতু তখন থেকেই আমাদের বন্ধুত্ব। তাছাড়া পরে দুজনেই যখন সিটি কলেজে ভর্তি হলাম, সেখান থেকেই আমাদের পথচলা৷

এন্ড্রু কিশোরের কোনো স্মৃতি সবচেয়ে বেশি পোড়াচ্ছে?- এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, যখন আমি শিক্ষকতায় আসি, তখন তার সঙ্গে ‘তুই-তুকারি’ সম্পর্কই ছিল৷ কিন্তু কিছুদিন পর সে আর আমাকে নাম ধরে ডাকে না। বলতো, স্যার কেমন আছো? তখন ‘তুমি’ হয়ে গেল৷ পরে তাকে জিজ্ঞেস করলাম, কিরে, তুই আমাদের সম্পর্কে দূরত্ব সৃষ্টি করে দিলি? সে বললো, ‘না, দূরত্ব নয়৷ তুমি একজন প্রফেসর মানুষ, তোমার তো সমাজে একটা মূল্যায়ন আছে। আমরা যদি তোমাকে সম্মান না দেই তাহলে অন্যরা কীভাবে সম্মান দেবে?’ এই যে একটা ব্যাপার, এই জিনিসটা আমার এখন খুব মনে পড়ছে!

এন্ড্রু কিশোর সংগীত জগতে এতো উচ্চতায় উঠেও নিরহংকারী ছিলেন উল্লেখ করে ড. দ্বীপকেন্দ্র নাথ বলেন, সব থেকে বড় কথা হচ্ছে, আমরা অনেক সময় দেখি, কেউ একজন বড় শিল্পী হয়ে গেলে তার মধ্যে একটা ‘অহংকারবোধ’ চলে আসে৷ সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশতে চায় না৷ কিন্তু এই দিকটা আমার বন্ধু কিশোরের মধ্যে ছিল না৷ সে আমার সঙ্গে ক্যাম্পাসে গিয়ে রিকশাওয়ালার সাথেও ছবি তুলেছে৷ মানুষের প্রতি তার অগাধ শ্রদ্ধাবোধ ছিল৷ জীবনের অন্তীম সময়েও বলে গেছে ‘ভালো থেকো, সবার সাথে ভালো ব্যবহার করো।’

সদ্য প্রয়াত বন্ধুর এমন স্মৃতিচারণে কণ্ঠ ভারী হয়ে ওঠে প্রফেসর ড. দ্বীপকেন্দ্র নাথ দাসের। এ সময় দেশের নবাগত শিল্পীদের জন্য এন্ড্রু কিশোরের অবদানের বিষয়ে তিনি বলেন, যারা সঙ্গীত জগতে নতুন আসে কিশোর তাদেরকে সাহস দিতো, স্টেজ ফ্রি করতো৷ এইটা তার একটা ভালো গুণ। সে নতুন শিল্পীদের উদ্দেশ্যে সবসময় একটা কথা বলতো৷ সে বলতো, ‘এখন শিল্পী তৈরি হয় না, তৈরি হয় পারফর্মার। কোনো রকম গান শিখলো বা শিখলো না, আর স্টেজে উঠে গেল। ফলে আমাদের দেশে ‘শিল্পী’ তৈরি হচ্ছে না।’


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

বিশ্বে করোনা ভাইরাস

বাংলাদেশে

আক্রান্ত
৫২৯,০৩১
সুস্থ
৪৭৩,৮৫৫
মৃত্যু
৭,৯৪২
সূত্র: আইইডিসিআর

বিশ্বে

আক্রান্ত
৯৪,৮২৬,৪৮৬
সুস্থ
৫১,৯৯২,৬৪৯
মৃত্যু
২,০২১,৮৬১