ব্যয় কমানোর পথে হাঁটছে ব্যাংক… – newsline71bd
শিরোনাম
রামগঞ্জে নিজস্ব অর্থায়নে এমপি আনোয়ার খানের কম্বল ও খাদ্যসামগ্রী বিতরণ… রামগঞ্জে নৌকার বিজয়ে আওয়ামীলীগ ঐব্যবদ্ধ!! ড. আনোয়ার হোসেন খান এমপি… প্রতারকের খপ্পরে পড়ে রিক্সা খোঁয়ানো দুলাল মিয়াকে নতুন অটোরিক্সা প্রদান।। নাটোরের সিংড়ায় চৌগ্রাম ইউনিয়নে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান,ঐক্য পরিষদ গঠন। নাটোরে বড়হরিশপুর ইউনিয়নে ছাত্রলীগ নেতার উদ্যোগে শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতারণ… রামগঞ্জে নবাগত শিক্ষকদের বরন করে নিলেন সহকারী প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি।। রামগঞ্জে গৃহবধু নির্যাতনের বিচার চাইতে এসে হামলার শিকার ৩মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান।। ওসির সাথে রামগঞ্জ প্রেসক্লাবের সদস্যদের মতবিনিময়!! অসম্ভবকে সম্ভব করে বাংলাদেশ আজ বিশ্বকে দেখিয়ে দিয়েছে আমরাও পারিঃ সেতুমন্ত্রী!! পদ্মার বুকে স্বপ্নের পুরো সেতু দৃশ্যমান!!
সোমবার, ১২ এপ্রিল ২০২১, ০৯:২৬ অপরাহ্ন

ব্যয় কমানোর পথে হাঁটছে ব্যাংক…

রিপোটারের নাম / ১০১ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২০

করোনা দুর্যোগে ব্যবসা-বাণিজ্যে স্থবিরতা ও সুদের হার ৯ শতাংশে নামিয়ে আনায় প্রতিটি ব্যাংকের আয় ৩০-৪০ শতাংশ কমে গেছে। এ অবস্থায় অর্থনীতিতে অর্থ সঞ্চালনের মুখ্য ভূমিকায় থাকা এ খাতটি ব্যয় সংকোচনের পথে হাঁটছে। কয়েকটি ব্যাংক এরই মধ্যে কর্মীদের বেতন কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কোনো কোনো ব্যাংক কর্মী ছাঁটাইয়ের চেষ্টা করছে। এতে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করেও আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠার মধ্যে আছেন কর্মীরা। সে কারণে সরকারের প্রণোদনা প্যাকেজের ঋণ বিতরণ বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

যদিও এরই মধ্যে প্রণোদনা প্যাকেজের সুষ্ঠু বাস্তবায়নের স্বার্থে কর্মীদের উজ্জীবিত রাখার জন্য দেশের সব তফসিলি ব্যাংককে নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, ব্যাংক মালিকরা তাঁদের সুবিধা নেওয়া বন্ধ না করে কর্মীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করছেন, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এতে ব্যাংকিং খাতের সংকট আরো বাড়বে।

এ বিষয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ড. এ বি মির্জ্জা মো. আজিজুল ইসলাম বলেন, ‘করোনা মহামারিতে অন্যান্য খাতের মতো ব্যাংকিং খাতও সংকটে পড়েছে, এ কথা ঠিক। তবে আমি বলব, ব্যয় সংকোচনের জন্য কর্মীদের বেতন-ভাতা কমানো বা ছাঁটাই করা কোনো সমাধান না। মানবিক কারণে হলেও এই মুহূর্তে এগুলো না করাই ভালো। এর পরিবর্তে অন্যভাবে পরিচালন ব্যয় কমানো যেতে পারে। ব্যাংকের মালিকরা কম ডিভিডেন্ট নিতে পারেন। সম্মানী নেওয়া থেকে বিরত থাকতে পারেন।’

এ ছাড়া খেলাপি ঋণ আদায় জোরদার করা এবং অন্য উপায়ে ব্যয় সংকোচনের পরামর্শ দিচ্ছেন অর্থনীতিবিদরা।

ব্যাংকগুলোর মূল আয় আসে ঋণের সুদ থেকে। এর বাইরে সার্ভিস চার্জ ও কমিশন থেকে কিছু আয় হয়।

জানা যায়, বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী ১ এপ্রিল থেকে সব ধরনের ঋণের সুদের হার ৯ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে। এতে ব্যাংকগুলোর সুদ আয় প্রায় ৩০ শতাংশ কমেছে। করোনার কারণে বিদ্যমান ঋণের কিস্তি আদায়ও হচ্ছে না। নতুন ঋণ বিতরণ ও আমদানি-রপ্তানি ব্যবসাও কমেছে। এতে সার্ভিস চার্জ ও কমিশন আয় কমে গেছে। কিন্তু ব্যয় আগের মতোই আছে। ফলে বাধ্য হয়ে ব্যয় সংকোচনের পথে হাঁটছে ব্যাংকগুলো। এরই মধ্যে চার-পাঁচটি ব্যাংক কর্মীদের বেতন কমানোর ঘোষণা দিয়েছে, যা জুলাই মাস থেকে কার্যকর হবে।

করোনার সংকট থেকে উত্তরণে আগামী দেড় বছরের জন্য ১৫ শতাংশ বেতন-ভাতা কমানোর সুপারিশসহ ১৩ দফা নির্দেশনা দিয়ে গত ১৫ জুন বেসরকারি ব্যাংকগুলোকে চিঠি দেয় বেসরকারি ব্যাংক মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস (বিএবি)।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিএবির ওই চিঠির পর কয়েকটি ব্যাংক তাদের কর্মকর্তাদের বেতন কমানোর ঘোষণা দিয়েছে। যদিও বিএবির নির্দেশনার আগেই একটি বেসরকারি ব্যাংক তাদের কর্মীদের বেতন কমানোর ঘোষণা দেয়। এ নিয়ে কয়েক দিন ধরেই ব্যাংকপাড়ায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া চলছে।

অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) সাবেক চেয়ারম্যান ও বেসরকারি মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘আমি মনে করি এখনই কর্মীদের বেতন কমানো বা ছাঁটাইয়ের সময় আসেনি। এতে কর্মীদের কর্মস্পৃহা কমে যেতে পারে। তখন স্বাভাবিক ব্যাংকিং কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হবে।’ তিনি আরো বলেন, একটি প্রতিষ্ঠানে অনেক ধরনের ব্যয় আছে। আগে সেগুলো কতটা কমানো যায় সেটা বিশ্লেষণ করে দেখা দরকার।

কিছু ব্যাংকের মালিকও মনে করেন করোনাসংকট মোকাবেলায় কর্মীদের বেতন কমানো সমাধান হতে পারে না। বরং অন্য পরিচালন ব্যয় কমিয়ে এই সংকট মোকাবেলা করা যেতে পারে। সে অনুযায়ী কয়েকটি ব্যাংক বেতন না কমানোর ঘোষণাও দিয়েছে।

ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক লিমিটেডের (ইউসিবিএল) চেয়ারম্যান রুকমীলা জামান বলেন, ‘আমরা মনে করি এই সংকটকালে বিভিন্ন পেশাজীবীর মতো ব্যাংকাররাও জীবনের সর্বোচ্চ ঝুঁকি নিয়ে তাঁদের পেশাগত দায়িত্ব পালন করে চলেছেন। সরকার যে প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে তা বাস্তবায়নে তাঁরা অগ্রণী ভূমিকা পালন করছেন। কভিড-১৯ মহামারির সংকট মোকাবেলার জন্য আমাদেরও বিভিন্ন কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে ভাবতে হচ্ছে। তবে তা কোনোভাবেই ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন কমিয়ে নয়। বরং আমরা ব্যাংকের অন্যান্য পরিচালন ব্যয় যথাসম্ভব কমানোর চেষ্টা করছি।’

সাউথ বাংলা অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংকের চেয়ারম্যান এস এম আমজাদ হোসেন বলেন, ‘করোনার প্রভাবে নেতিবাচক অর্থনৈতিক মন্দা কাটিয়ে উঠতে ব্যাংকারদের ফ্রন্টলাইনার যোদ্ধা হিসেবে মনোবল ধরে রাখা প্রয়োজন। তা ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত প্যাকেজ বাস্তবায়নেও ব্যাংকের অনেক ভূমিকা রয়েছে। এমন অবস্থায় আমাদের ব্যাংকের পর্ষদ কর্মকর্তাদের বেতন না কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’

করোনার ক্ষতি মোকাবেলায় এক লাখ কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে। এই প্যাকেজের বেশির ভাগই ব্যাংকের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এরই মধ্যে প্যাকেজের আওতায় ঋণ বিতরণে অসহযোগিতার অভিযোগ উঠেছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৭ জুন সার্কুলার জারি করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এতে বলা হয়, ‘ব্যাংক কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অধিকতর উজ্জীবিত হয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক ঋণ প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়নে যাতে অগ্রগণ্য ভূমিকা পালন করতে পারে সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সকল উদ্যোগ গ্রহণ করার জন্য ব্যাংকসমূহকে নির্দেশনা প্রদান করা হলো।’

বর্তমানে ব্যাংকিং খাতের সবচেয়ে বড় সমস্যা উচ্চ খেলাপি ঋণ। আবার খেলাপি ঋণের বড় অংশই মন্দমানের। এ মানের খেলাপি ঋণের বিপরীতে শতভাগ প্রভিশন সংরক্ষণ করতে হয়। ব্যাংকের আয়ের খাত থেকে এই প্রভিশন সংরক্ষণ করা হয়। প্রভিশন সংরক্ষণে ব্যাংকগুলোর বড় পরিমাণ আয় আটকে আছে। এ ছাড়া পরস্পর যোগসাজশে এক ব্যাংকের পরিচালক আরেক ব্যাংক থেকে নামে-বেনামে সহজে ঋণ বের করে নিচ্ছেন। এ রকম ঋণের পরিমাণ এখন প্রায় পৌনে দুই লাখ কোটি টাকা। এসব ঋণের বড় অংশ খেলাপি হলেও বছরের পর বছর তা নিয়মিত হিসেবে প্রদর্শন করা হচ্ছে। এই নৈরাজ্যের প্রভাব পড়ছে বেসরকারি বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানে।

ব্যাংকিং খাতের অনেকেই বলছেন, খেলাপি ঋণ, পরিচালকদের নামে-বেনামে নেওয়া ঋণ আদায় ও পরিচালকদের বিভিন্ন ধরনের অবৈধ সুবিধা বন্ধ করা গেলে ব্যাংকগুলো কিছুটা চাপমুক্ত হবে। তখন কর্মী ছাঁটাই বা বেতন কমানোর প্রয়োজন হবে না।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

বিশ্বে করোনা ভাইরাস

বাংলাদেশে

আক্রান্ত
৬৯১,৯৫৭
সুস্থ
৫৮১,১১৩
মৃত্যু
৯,৮২২
সূত্র: আইইডিসিআর

বিশ্বে

আক্রান্ত
১৩৫,১৭১,৮৪২
সুস্থ
৭৬,৮৭২,৩৬৩
মৃত্যু
২,৯২৫,৫৯৪